
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন বরগুনার সাবেক এক যুবদল নেতা।
অভিযোগকারী মশিউর রহমান মামুন সোমবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকক যাওয়ার পথে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায়।
মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে টানা ছয় মাস চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে একটি গোপন স্থানে আটকে রাখা হয় এবং এ সময় অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি বলেন, আগে নিয়মিত খেলাধুলা করলেও এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও পারেন না এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও জানান, ছয় মাস পর ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং প্রায় দুই বছর কারাগারে থাকতে হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
সোমবার সকালে ডিবি পুলিশের গাড়িতে করে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান এবং প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম-এর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
মামুন জানান, তিনি শুধু শেখ হাসিনাই নন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের আরও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এখনই প্রকাশ করছেন না।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি লন্ডন-এ অবস্থান করছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার ওপর চালানো নির্যাতনের বিবরণ ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি BBC-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম অবস্থায় তাকে চোখ বেঁধে রাখা, ছাদ থেকে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা, মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। তার আশা, গুম ও নির্যাতনের মতো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত হবে।