
সাত মার্চ উদ্যাপনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে মিছিল নিয়ে ফুল দিতে আসা চারজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে কলাবাগান থানা পুলিশ।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ৩০-৪০ জনের একটি মিছিল ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের দিক থেকে মিছিল নিয়ে আসছিল। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পৌঁছানোর পর পুলিশের বাধায় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এর মধ্য থেকে চারজনকে ধরে থানায় নিয়ে যায় কলাবাগান থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ।
কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা হাতে ফুল নিয়ে মিছিল করতে করতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আসে। এসময় তাদের মধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছে।
“এই চারজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
একাত্তরের যে দিনটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের ঘোষণায় স্বাধীনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের প্রতিটি প্রান্তে, ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া সেই ৭ মার্চ এবার এসেছে ভিন্ন বাস্তবতায়।
আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ৭ মার্চ উদযাপনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে যে ছেদ পড়ছিল, বিএনপির নতুন সরকারেও তা কাটেনি।
বঙ্গবন্ধু কন্যা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবল গণ আন্দোলনের মুখে চব্বিশের ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে ইতিহাসে সবচেয়ে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ।
হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকালে প্রতিবছরই নানা কর্মসূচিতে পালিত হত জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া দিনটি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
বদলে যাওয়া বাস্তবতায় ঐতিহাসিক এই দিনে কোনো কর্মসূচির কথা শোনা যায়নি। গত বছর মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। দলটির নেতাকর্মীরা হয় পলাতক, নয়ত জেলে।
ক্ষমতা হারানোর পর থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ড ফেইসবুকেই সীমাবদ্ধ; ৭ মার্চ ঘিরেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।