.webp)
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) শিশুটির নানি শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন। এতে মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও অষ্টম ও দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলম সরদার (৩৬) এবং ওই প্রতিষ্ঠানের অষ্টম ও দশম শ্রেণির দুই ছাত্র।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শিশুটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে নানির বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। তার বাবা যশোরের শার্শা উপজেলার বাসিন্দা এবং মা মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে থাকেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে দশম শ্রেণির এক ছাত্র গোপনে শিশুটির গোসলের ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিডিওটি অষ্টম শ্রেণির আরেক ছাত্রের কাছে দেয়। এরপর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তারা শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২ জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নানির অনুপস্থিতিতে দুই শিক্ষার্থী শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলম সরদারের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিবেশী ও শিক্ষক হওয়ায় তিনি নিয়মিত শিশুটির নানির বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি নানি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তিনি শিশুটিকে জুস খাওয়ান। এরপর শিশুটি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বয়স কম হওয়া ও লোকলজ্জার ভয়ে শিশুটি এত দিন কাউকে নির্যাতনের কথা জানায়নি। গত ৫ অক্টোবর সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নানি তাকে যশোরের একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানান।
পরে নানির জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা খুলে বলে।
শিশুটির নানি বলেন, তিনি অসহায়। এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সৃষ্টিকর্তার ওপরই তাঁর ভরসা। নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না বলে জানান।
শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি; মুঠোফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলম সরদারের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জবাব না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির নানির করা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।