
টানা ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো। এর মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একটি ফোনালাপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।” সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এ মন্তব্যের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কিছু পরীক্ষার্থী আন্দোলনের ডাক দেন।
জানা গেছে, রাজধানীর সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষামন্ত্রীকে কল দিয়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে হওয়া ওই কথোপকথন অন্য একটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় এবং পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মিটিংয়ে একজন বলছিলেন, একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে। বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসে। তখন আমি মিটিংয়েই বলছিলাম যে, একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে, জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।”
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী ছিলেন। তবে জেলা প্রশাসক ও আবহাওয়াবিদদের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, “আমি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ডিসিদের ফোন করা হলো, আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা হলো। তারা জানালেন, আগামীকাল বৃষ্টি হবে না। তখন পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।”
জবাবে ওই শিক্ষার্থী বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে অনেক পরীক্ষার্থীর ইতোমধ্যে জ্বর এসেছে। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র এবং আইসিটি পরীক্ষার দিনও শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
এর উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। সেখানে সবাই বলছেন আমরা প্রস্তুত। শিক্ষার্থীরাও প্রস্তুত। সেখানে কেউ পরীক্ষা পেছানোর পক্ষে ছিলেন না। আমি ছিলাম।”
কথোপকথনে পরীক্ষার রুটিন নিয়েও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, উচ্চতর গণিত দ্বিতীয়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগে মাত্র একদিন বিরতি থাকায় প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হচ্ছে।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই রুটিন তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছিল, তবে এ বিষয়ে কোনো আপত্তি পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “আগে সকাল-বিকেল পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। আমি বলেছি, সেটা হবে না। অন্তত একদিন বিরতি দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হোক। সেটাই করা হয়েছে।”
শেষে শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “এগুলো বলে আর লাভ হবে না। তুমি পরীক্ষা দিয়ে ফেলো। চিন্তা কোরো না। এখন গরম এক কাপ কফি খেয়ে পড়তে বসে যাও।”
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি।