
কারাগারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে সংশোধন, পুনর্বাসন ও মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তরের লক্ষ্যে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠছে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায়।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৩তম সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
প্রস্তাবিত নতুন নাম
সভার আলোচ্যসূচিতে বর্তমান ‘Bangladesh Jail’ নাম পরিবর্তন করে
ইংরেজিতে: ‘Bangladesh Custodial and Correctional Service’
বাংলায়: ‘বাংলাদেশ হেফাজত ও সংশোধনাগার’
নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবের পটভূমি
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে অপরাধ ও বিচার ব্যবস্থার ধারণায় দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। এখন কেবল শাস্তি প্রদান নয়, বরং নিরাপদ হেফাজত নিশ্চিত করা, প্রশিক্ষণ ও প্রেষণার মাধ্যমে বন্দিদের সমাজের মূলধারায় পুনর্বাসন করাই কারাগারের মূল লক্ষ্য।
এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে প্রতিষ্ঠানটিকে সংশোধন ও পুনর্বাসনমুখী আধুনিক কাঠামোয় উপস্থাপনের অংশ হিসেবেই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সভার অন্যান্য আলোচ্য বিষয়
সচিব কমিটির সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তোলা হবে:
Bangladesh Coast Guard-এর সাংগঠনিক কাঠামোয় জাইকার অর্থায়নে প্রাপ্ত ২৪টি রেসকিউ বোট ও একটি ট্রেনিং বোট পরিচালনায় রাজস্ব খাতে ৪২টি পদ সৃজন।
শরীয়তপুর জেলার পদ্মা সেতু (দক্ষিণ) থানার কার্যক্রম পরিচালনায় রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৯টি পদ সৃষ্টি।
মুন্সীগঞ্জ জেলার পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার কার্যক্রম পরিচালনায় রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৯টি পদ সৃষ্টি।
Bangladesh Police-এর সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত ‘পুলিশ টেলিকম সংস্থা’র ইমার্জেন্সি কল সেন্টারের জন্য রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৭৩টি পদ সৃজন।
বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ৪ হাজার এএসআই (নিরস্ত্র) পদ রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সৃজন এবং ৪ হাজার কনস্টেবল পদ বিলুপ্তির প্রস্তাব।
সভায় এসব প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।