
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকার বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১–২০২২ শিক্ষার্থী। উদ্ধারের সময় তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পরে থাকতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জানা যায়, শারমিনের স্বামী রোববার (১৫ মার্চ) আনুমানিক বেলা ২টা থেকে ৩ টা নাগাদ বাসায় ফিরে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ পান। এরপর তিনি বাসার ভেতরে প্রবেশ করে শারমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পরে থাকতে দেখেন। এসময় তার জ্ঞান ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরবর্তীতে বাড়িওয়ালার সহায়তায় শারমিনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন এনাম মেডিকেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
শারমিনের স্বামী ফামিম জানান, সকালে তাদের দুজনের ফোন কেনার জন্য ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শারমিনের প্রেশার লো থাকায় তিনি একা ঢাকা যান। এরপর তিনি ঢাকা থেকে কয়েকবার মেসেজ করেন তবে এর কোন উত্তর পাননি। এরপর শারমিনের মা ও ফোনে শারমিনকে না পেলে ফাহিমকে ফোন করেন। এরপর আনুমানিক বেলা দুইটা থেকে তিনটার দিকে বাসায় এসে ফাহিম বাসার সামনের দরজা বন্ধ দেখেন। তখন অনেক বার নক করলেও বাসা খোলে হয়নি। এরপর বাড়িওয়ালা সেখানে উপস্থিত হন এবং পেছনের দরজা দিয়ে বাসায় ঢোকারর পরামর্শ দেন। তখন বাসায় ঢুকে শারমিনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় শারমিনের মাথাসহ একাধিক জায়গায় ক্ষত ছিল। সেই সাথে শারমিনের শরীরের উপরের অংশে কোন কাপড় ছিলনা বলে জানান। তখন বাড়িওয়ালার পরামর্শে উপরের অংশে কাপড় পরিয়ে হাসপাতালে নেন।
তিনি আরো জানান, বাসায় যাওয়ার জন্য তারা লাগেজ গুছিয়ে রেখেছিলেন। সেই লাগেজটি এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেই সাথে শারমিনের ব্যবহৃত ফোন ও ল্যাপটপটি তিনি খুঁজে পাননি বলে জানান।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার জানান, আমরা ঘটনা স্থলে উপস্থিত রয়েছি। তদন্তের জন্য ডিবি ও সিআইডিকে আসতে বলা হয়েছে। এখনই কোন মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং যথাসম্ভব সহযোগিতা করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি এর প্রপার ইনভেস্টিগেশন করার।