
শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শিক্ষকদের কর্তৃক ঘোষিত একাডেমিক শাটডাউনের কারণে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা না দিতে পেরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
গত ২০ এপ্রিল শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ঘোষিত একাডেমিক শাটডাউনের মধ্যে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করায় পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষাগুলো বেশিরভাগ বিভাগেই স্থগিত করা হয়েছে। এতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ইউজিসির নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষক পদোন্নতিতে অভিন্ন নীতিমালা অনুযায়ী আন্দোলনরত শিক্ষকদের কিছু ঘাটতি রয়েছে যার কারণে তাদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও বিগত দিনের পদোন্নতি নিয়েও ইউজিসির রয়েছে আপত্তি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজিদুল করিম সাদি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে হতাশার সুরে বলেন, স্যার আমরা আমাদের ৮ম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছি। ২৩ এপ্রিল রুটিন অনুযায়ী আমাদের একটি পরীক্ষা আছে। কিন্তু চলমান শিক্ষকদের আন্দোলনে আমাদের পরীক্ষাটি হবে না। স্যার আমরা ইতোমধ্যেই ২ বছর পিছিয়ে আছি। পরীক্ষার খাতায় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা-২০২৪ লিখতে হয়। এরমধ্যে আমাদের বাকি পরীক্ষাগুলো যদি না হয় সেক্ষেত্রে দেখা যাবে আমরা আরো কয়েক মাসের সেশনজটে পড়ে যাব। স্যার আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, চলমান এই সংকটময় পরিস্থিতির একটা যৌক্তিক সমাধান অতিদ্রুত করুন।
সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে নুসরাত আফরিন নামক এক শিক্ষার্থীকে ক্ষোভের সুরে বলতে দেখা যায়, শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির পরে বাড়িতে গিয়ে তো বড় মাছ-মাংস ছাড়া আর ভাত খাবে না, আর অন্যদিকে গরিব ঘরের যে সন্তানগুলো পড়ালেখা করতে আসে তাদের মা-বাবা ছেলে-মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে দুটো ভাতের জন্য। ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রেখে শিক্ষকগণ সুবিধা ভোগ করবে, তাদের বেতন-ভাতা সব বৃদ্ধি করতে হবে কেনো যেখানে শিক্ষার্থীরাই ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারবে না।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে অনেক সচেতন। করোনা কালীন বা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে একটা সেশনজটের দেখা দিয়েছিল আমরা তো আস্তে আস্তে একটা সমতায় নিয়ে আসতে পেরেছি।
কিন্তু আনফরচুনেটলি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অচল অবস্থা, এর জন্য আসলে শিক্ষক কমিউনিটি দায়ী না। কারণ যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ন্যায্যতা এচিভ হয় না সেখানে আসলে এ ধরনের খুব হতাশা জন্ম নিতেই পারে। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই অচল অবস্থা নিরসনের জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। এবং আমার মনে হয় আলোচনার টেবিলে আমরা সমাধান করতে পারবো।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, আমি শিক্ষকদের অনুরোধ জানাচ্ছি তারা যেন অন্ততপক্ষে পরীক্ষাগুলো নেন। আমরা এমনিতেও অনেক পিছিয়ে আছি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে হলেও শিক্ষকদের উপর আমার অনুরোধ তারা যেন রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা নিয়ে নেন।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণক দপ্তরে নির্দেশনা দিয়েছি যে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা রুটিন অনুযায়ী খাতা, প্রশ্নপত্রসহ পরীক্ষার আনুষঙ্গিক সকল কিছু যাতে যথাসময়ে বিভাগগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়।