
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি সংকট, গণহিংসা ও কৃষকের সেচ সমস্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বামপন্থি কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের জোট। বুধবার (২২ এপ্রিল) ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টিএসসি এলাকা থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জাবির আহমেদ জুবেল, যিনি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক।
লিখিত দাবিতে জোটটি জ্বালানি সংকট ও কৃষকের সেচ সমস্যার দ্রুত সমাধান, গণহিংসা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার, এবং আটকের ঘটনাগুলোর ন্যায্য নিষ্পত্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি তারা রাজনৈতিক সহিংসতা ও কথিত ‘জুলাই গণহত্যা’র বিচার এবং পার্বত্য অঞ্চলে সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিও তোলে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অসম বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষরের চেষ্টা চলছে, যেখানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন রয়েছে।
জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘যারা সংসদে নেই, তারা এ চুক্তির প্রভাব ভোগ করবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষই এর বোঝা বহন করবে।’
জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্যে বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দিন বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য জ্বালানি প্রয়োজন হলেও বাজারে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, অথচ রাজনৈতিক দলগুলো কেবল দোষারোপের রাজনীতি করছে।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের একটি কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে বাস্তব দাবির কোনো সামঞ্জস্য নেই।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুমার চাকমা এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র পরিষদের সভাপতি সাইদুল হক নিশান।