
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক পদোন্নতি ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবার চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের ‘অসহযোগ আন্দোলনের’ পর দাবি আদায়ে এবার বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।
অচল হয়ে পড়ছে একাডেমিক কার্যক্রম
রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল এই ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১১ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকরা গত ২১ এপ্রিল থেকে ক্লাস বর্জন করে আসছেন, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে একাডেমিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. তৌফিক আলম তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
রোববারের সাধারণ সভায় শিক্ষকরা উপাচার্যের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ৮ মে রাতে জরুরি নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকালে একটি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। শিক্ষকদের দাবি, ওই সভায় অধিকাংশ সদস্যের মতামতকে তোয়াক্কা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
এরই প্রতিবাদে শিক্ষকরা কয়েকটি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন:
আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে।
একই দিন থেকে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একযোগে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
প্রশাসনিক ও একাডেমিক সব ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন পালিত হবে।
উপাচার্যের নিরবতা ও অনিশ্চয়তা
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং শিক্ষকদের কঠোর অবস্থান সম্পর্কে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ এপ্রিল থেকে শিক্ষকরা ‘অসহযোগ আন্দোলন’ শুরু করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো সমাধান না আসায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। শাটডাউন কর্মসূচির ফলে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।