
লাগামহীন মূল্যস্ফীতি আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হিমশিম খাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য আশার আলো নিয়ে আসছে নবম পে-স্কেল। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিন ধাপে পেনশন বৃদ্ধি ও বাজেট বরাদ্দ
পেনশনভোগীদের শেষ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবারের সুপারিশে তিন স্তরে পেনশন বাড়ানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই খাতের আংশিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাথমিক খসড়া বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন মূলত দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল, যা ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
ভাতা কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
নতুন বেতন কাঠামোতে কর্মচারীদের সামাজিক ও পারিবারিক চাহিদাগুলো মাথায় রেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো হলো:
বৈশাখী ভাতা: বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে দেওয়া হলেও এটি বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
টিফিন ভাতা: ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানের ২০০ টাকা ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ এসেছে।
শিক্ষা ভাতা: সন্তানদের মাসিক শিক্ষা সহায়তা ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সংকট লাঘবের প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত লাখ লাখ মানুষের বর্তমান আর্থিক টানাপোড়েন কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুনর্গঠিত কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এটি কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা।