
দীর্ঘদিন পর কোনো পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন ঝানু রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে নিজেদের নতুন দূত হিসেবে পাঠাচ্ছে ভারত। আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় পা রাখবেন ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও প্রবীণ বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী।
প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ত্রিবেদী
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্রণয় ভার্মা। শীঘ্রই তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিদায়ী এই কূটনীতিককে বেলজিয়ামে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করেছে নয়াদিল্লি।
তার জায়গায় গত এপ্রিলের শেষ দিকে দীনেশ ত্রিবেদীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে ভারত সরকার। একজন রাজনীতিককে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাটি দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞ এক রাজনৈতিক প্রোফাইল
৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদীর রয়েছে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন তিনি।
সাবেক রেলমন্ত্রী: মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি রেলমন্ত্রী ছিলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী: ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
সংসদীয় অভিজ্ঞতা: তিনি ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভার সদস্য এবং গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
তৃণমূল থেকে বিজেপি: রাজনৈতিক পালাবদল
দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবনে বড় পরিবর্তন আসে ২০২১ সালে। সে বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং মার্চ মাসে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।
এর আগে ২০১২ সালে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন রেল বাজেটে যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। তবে দলীয় প্রধানের সাথে মতবিরোধ ও চাপের মুখে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
জুন থেকে নতুন মিশন
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বাংলাদেশে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় নয়াদিল্লি।