
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়া ছবি তোলার অভিযোগে দেবাশীষ চৌধুরী নামে ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক এক নেতাকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হলে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার আমন্ত্রণে বটতলা এলাকায় খাবার খেতে এসেছিলেন দেবাশীষ চৌধুরী। এ সময় কয়েকজন ছাত্রী তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তোলার অভিযোগ তোলেন।
অভিযোগের পর শিক্ষার্থীরা তার মোবাইল ফোনের গ্যালারি দেখতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ঘটনাস্থলে জাকসুর প্রতিনিধি, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা, নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন।
একপর্যায়ে মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীর চলাচলের সময় তোলা ছবি পাওয়া যায়। একইসঙ্গে তার ফোনে বটতলা এলাকার দোকান ও খাবারের ছবিও পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা তার ব্যবহৃত গাড়ি থেকে দুটি বিয়ারের বোতল উদ্ধার করেন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় সোপর্দ করা হয়।
রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে ভিডিওতে বক্তব্য গ্রহণ এবং মুচলেকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত দেবাশীষ চৌধুরী দাবি করেন, তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দৃশ্যের সঙ্গে কিছু ছবি তুলেছিলেন এবং সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপে তার এক আত্মীয়কে পাঠিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছবি তোলার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
গাড়িতে বিয়ারের বোতল থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে এবং সে কারণেই সেগুলো সঙ্গে রাখা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির মোবাইল ফোনে দুই শিক্ষার্থীর ছবি পাওয়া যায়। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে তিনি ও তার গাড়ি আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না বলে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেন। এরপর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।