
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকায় ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলাসহ একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও নয়জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার নাবিলার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁর অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
নিহত ছয়জন হলেন রাজধানীর বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম এবং ফারিহা কবির ও ফায়িজান আহম্মেদ। তাঁদের মধ্যে নাবিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
নিহতদের স্বজন ও জবির লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ সরকার জানান, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন তাঁর কাজিন এবং অন্যজন পাঁচ বছর বয়সী ভাগনি। এ ছাড়া তাঁর মামা মাসুদ ও মামী মেহেরুন্নেসা আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এক শোকবার্তায় উপাচার্য ও ট্রেজারার নাবিলার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এ অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তাঁদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেন।
নাবিলাসহ একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুতে স্বজন, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর ধোঁয়া দেখা যাওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত পর্যটকেরা বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন বের হতে পারলেও অন্যরা রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়েন।
উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। সকাল ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্ট থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত নয়জনকে উদ্ধার করা হলে তাঁদের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, রিসোর্টটির বেশির ভাগ অংশ কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের পেছনের অংশ ইট দিয়ে নির্মিত। প্রতিটি কক্ষে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও রেফ্রিজারেটর থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে থাকতে পারে।