
রাজধানীর রামপুরায় জুমার নামাজ আদায় করে ঘরে ফেরার পথে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে কাইল্যা পলাশ (৫০) বন্দুকধারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর সাড়ে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই পশ্চিম রামপুরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাইল্যা পলাশ পশ্চিম রামপুরার মক্কী মসজিদে জুমার নামাজ শেষ করে হেঁটে নিজের বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে চড়ে আসা দুই সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার পথ রুদ্ধ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা আকস্মিকভাবে পলাশের কলার চেপে ধরে অত্যন্ত কাছ থেকে কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ট্রিগার টেপা হয়। ঘটনাস্থলে অন্তত ৩ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যার মধ্যে একটি গুলি সরাসরি তার মাথায় বিঁধে যায়।
গুলির বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। ঘটনার সময় তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ইয়াসিন খান ওরফে কাইল্যা পলাশ পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ অপরাধী। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কারাগারে থাকার পর গত ৭ মে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর ইসলাম জানান, "পলাশ কিছুদিন আগেই জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। মুক্তির পর তিনি রামপুরা এলাকাতেই বসবাস করছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।"
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি পুরোনো শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।