
ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি ঘিরে উৎসবের রঙে সেজেছিল বুড়িগঙ্গা। নদীর দুই তীরে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ছয়টি দল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। রাজধানীবাসীর মধ্যে ঢাকার প্রতি মমত্ববোধ, ভালোবাসা ও নাগরিক দায়িত্বশীলতা বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বুড়িগঙ্গার দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শত শত নৌকা ও ট্রলারে নদীতে জড়ো হন নগরবাসী। প্রতিযোগিতার নৌকার সারি, দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস আর নদীর পাড়ের মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের কেন্দ্রে।
প্রতিযোগিতা শেষে সোয়ারীঘাট এলাকায় নোঙর করা শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী স্টিমার পিএস মাহমুদে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
নৌকা বাইচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ঢাকার চারপাশের নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করে নৌচলাচল অবাধ, সচল ও নিরাপদ করতে কাজ করছে সরকার। বুড়িগঙ্গা, বালু, ধলেশ্বরীসহ নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে ওয়াসা, বিআরটিএ, পর্যটন করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।’
বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ায় ডিএসসিসির প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে নদীর তীর সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নগরবাসীর হাঁটা ও বিনোদনের জন্য আরও উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপ দিতে নাগরিকদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। আদি ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে মিনি ম্যারাথন, সাইকেল র্যালি, নাট্য উৎসব ও চলচ্চিত্র উৎসবসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কামরাঙ্গীরচরে আট লেনের সড়ক ও নদীর পাড় বাঁধাই করে দৃষ্টিনন্দন হাঁটার পথ তৈরির মতো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদের দল। দ্বিতীয় হয়েছে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মোশারফ হোসেন খোকনের দল। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে মাদারীপুরের আনিসুর রহমানের দল।
অনুষ্ঠানে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।