
ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চরের ইসলামবাগ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে জমে থাকা প্লাস্টিকসহ সব ধরনের বর্জ্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
১৫ দিনের মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ
আদালত নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক এবং লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ আরও ১৩ জনকে নির্দেশটি বাস্তবায়ন করতে বলেছেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে ইসলামবাগ এলাকার বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
২০১০ সালের নির্দেশনার পরও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে
১৯ আগস্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিট আবেদনটি করে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বুড়িগঙ্গার দূষণ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০১০ সালে হাইকোর্ট বিভাগ রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশনার পরও ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে শত শত প্লাস্টিক বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, এভাবে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এসব আবর্জনা একপর্যায়ে নদীতে গিয়ে পড়তে পারে। এতে বুড়িগঙ্গার পানির দূষণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নদী দূষণ রোধে আদালতের আগের নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বুড়িগঙ্গা দূষণ রোধে আগেও নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট
বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে এইচআরপিবি একটি রিট আবেদন করেছিল। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন।
সেসব নির্দেশনার মধ্যে নদীর তীরে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার ওপর নিষেধাজ্ঞাও ছিল।
তবে আদালতের সেই নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রাখার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
‘দূষণ ঢাকার পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে’
রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, বুড়িগঙ্গার দূষণ ঢাকার পরিবেশের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের আগের নির্দেশনা সত্ত্বেও ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে শত শত প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য জমে আছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত নদীতে গিয়ে পড়ার ফলে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।
রিটের পক্ষে মনজিল মোরশেদকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
এইচআরপিবির পক্ষে মোহাম্মদ সরওয়ার আহাদ চৌধুরী ৩০ আগস্ট আবেদনটি করেন।