
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। পরে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে পৌঁছে অবস্থান নেন তারা। এ সময় দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
‘নিয়োগপত্র না নিয়ে ঢাকা ছাড়ব না’
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী তানভীর রহমান বাপ্পারাজ বলেন, সরকার যেসব কারণ দেখিয়ে তাদের বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছে, সেসব কারণ দেখিয়ে তাদের বাদ দেওয়ার অধিকার সরকারের আছে কি না—এ প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এক সরকারের আমলে পরীক্ষা দিয়েছি এবং আপনার আমলে নিয়োগ হচ্ছে বলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নটাই আপনার কাছে রেখে গেলাম।’
তানভীর আরও বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মারামারি করতে আসিনি, কোনো বিশৃঙ্খলা করতেও আসিনি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য এসেছি। নিয়োগপত্র না নিয়ে আমরা ঢাকা ছাড়ব না।’
‘রি-ভেরিফিকেশনের নামে কোনো প্রহসন চাই না’
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’ বলছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাদের দাবি, এর বিপরীতে এখন বেকারদের নিয়ে চূড়ান্ত প্রহসন করা হচ্ছে এবং বেকারত্ব আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পুনরায় রি-ভেরিফিকেশনের নামে কোনো প্রহসন চান না।
‘আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থী বাদ, কারণ অজানা’
সংগঠনটির দাবি, আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থীকে কেন নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কোনো কারণ জানেন না। একই সঙ্গে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আসলে কারা, সেটিও স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের ভাষ্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে নিয়োগের সব দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের। আবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জেলা শিক্ষা অফিস মূল দায়িত্বে। অন্যদিকে জেলা অফিস বলছে, দায়িত্ব অধিদপ্তরের হাতে। এ অবস্থায় আসলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কারা—এ প্রশ্ন তুলেছেন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তরা।
তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ব্যক্তি এবং সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে যোগ্য সব প্রার্থীকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে। অন্যথায় তারা কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন।
২ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী বাদ পড়ার দাবি
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ২ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী বাদ পড়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।