
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ে শান্তি, নিরাপত্তা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সন্ত্রাস দমন থেকে শুরু করে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা আজ সর্বমহলে প্রশংসিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, সম্প্রতি মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে,
সম্প্রীতি ও ক্রীড়ার মাধ্যমে শান্তি স্থাপন:
পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেনাবাহিনী নিয়মিত আয়োজন করছে 'সম্প্রীতি কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬'। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন মাঠে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে স্থানীয় তরুণরা উৎসাহের সাথে অংশ নিচ্ছে। শুধু টুর্নামেন্ট নয়, খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি, ফুটবল ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করে যুব সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রেখে খেলাধুলামুখী করছে সেনাবাহিনী।
মানবিক ও চিকিৎসা সেবা:
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে সেনাবাহিনী নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছে। মাটিরাঙ্গা ও গুইমারার প্রত্যন্ত স্কুল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সেনা চিকিৎসক দল বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সাথে গর্ভকালীন মায়েদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ ও সফলতার সনদ প্রদান করা হয়েছে।
ফ্রিমেডিকেল ক্যাম্পেইনে সেবানেয়া হরিদাস নামে একজন বয়স্ক ব্যক্তি জানান, আগে ডাক্তার দেখাতে শহরে যেতে হতো, এখন সেনাবাহিনীর ক্যাম্পেই বিনা পয়সায় ডাক্তার পাচ্ছেন। সেনাবাহিনীর এমন জনহিতকর কর্মসূচির জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষা ও যোগাযোগে:
বর্ষায় ভেঙে যাওয়া ও পাহাড়ি ছড়ার ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী। যে খানে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতো কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্মিত নতুন বাঁশের সেতু এখন তাদের নিরাপদ যাতায়াতের ভরসা। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করে এলাকার সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিচ্ছেন মাটিরাঙ্গা জোন।
পাহাড়ে চাঁদাবাজি রোধ, সশস্ত্র সন্ত্রাস দমন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ সবখানেই সেনাবাহিনীই প্রথম সারিতে।
সর্বোপরি, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। পাহাড়ের প্রতিটি জনপদে আজ সেনাবাহিনী শুধু একটি বাহিনী নয়, ভরসা ও আস্থার নাম।