
ঋণখেলাপি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, যারা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে সন্তানদের পড়াশোনা করায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাকসার বাজার মসজিদের সামনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যারা ঋণ খেলাপি করে বিদেশে রেখে নিজের সন্তানদের লেখাপড়া করায় আমরা সেসব ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিবো। জনগণের টাকা মেরে দিয়ে জনসেবা করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে ভিক্ষা লাগলে জনগণের কাছে আসুন, আমরা ভিক্ষা তুলে দিয়ে সেই টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করব।”
জনতার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমাদের মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ইনসাফের পক্ষে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকব। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ হয়েছে। একটি গোলামির পক্ষ এবং আরেকটি আজাদি বা স্বাধীনতার পক্ষ। অবশ্যই ইনসাফ ও স্বাধীনতার পক্ষে আমরা অবস্থান নিবো। আমরা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবো।”
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচার নিশ্চিত হওয়া না পর্যন্ত আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।” পাশাপাশি তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, সম্পর্ক হবে আপনাদের জনগণের সঙ্গে আমাদের জনগণের। ভারত যদি আওয়ামী লীগের দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে দেখার চেষ্ট করে তাহলে সেঠা হবে এই প্রজন্মের ভুল রিডিং মিছ রিডিং।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমরা দেখতে পেয়েছি ৬ মাসের দীর্ঘ পরিকল্পনায় হাদি ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। ভারত থেকে তাদের পোস করা হয়েছে এবং ক্লিনমিশন শেষ হওয়ার পর তাদের আবার ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রকাশ্যে দিবালোকে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হলেও আমাদের দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অথর্ব প্রশাসন, অথর্ব বিচার বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রধান আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।”
হাদির শেষ ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে এনসিপি নেতা বলেন, “মৃত্যুর পূর্বে মানুষ অসিয়ত করে যায়। আমাদের হাদি ভাইও অসিয়ত করে গেছেন, যে আমাকে যদি মেরেও ফেলে যেন বিচার টুকু হয়।” তিনি যোগ করেন, “হাদির বিচারের দাবি শুধু শাহবাগে সীমাবদ্ধ নয়, এ দাবি এখন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পৌঁছে গেছে।”
রাজনীতির দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, “হাদি ভাই আমাদের শিখিয়ে গেছেন রাজনীতি কেমন হওয়া উচিত, আসলে রাজনীতি গণমানুষের হওয়া উচিত।” সেই আদর্শ সামনে রেখে কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি বলেন, “হাদি ভাইয়ের সেই বার্তা নিয়ে রাজনীতি গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
রাজনীতি ও ক্ষমতার পার্থক্য তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “রাজনীতি যখন গণমানুষ থেকে আলাদা করা হয়, তখন সেটা রাজনীতি থাকেনা, সেটা হয়ে যায় ক্ষমতারনীতি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা রাজনীতি জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছে দিতে চাইছি এবং সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের নির্বাচন, আমাদের রাজনীতি, আমাদের ইনসাফের কর্মকান্ড সবকিছু আমরা জনগণমুখী করার চেষ্টা করছি।”
অনুষ্ঠানে দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াত ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।