
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের খারান শহরে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুটি ব্যাংক লুট ও একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের ফলে অন্তত ১২ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানায়, ভারতের সহায়তায় ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী খারানে একযোগে তিন স্থানে হামলা চালায়। লক্ষ্য ছিল খারান সিটি পুলিশ স্টেশন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং হাবিব ব্যাংক লিমিটেড। হামলার সময় তারা ব্যাংক দুটি থেকে প্রায় ৩৪ লাখ রুপি লুট করার চেষ্টা করে। পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়ে জিম্মি ছিনিয়ে নেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে তা ব্যর্থ হয়।
আইএসপিআর জানিয়েছে, খারান ও আশপাশের এলাকায় ক্লিন-আপ অভিযান চলমান রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) এবং ফেডারেল সরকারের অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় বিদেশি সহায়তাপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, অভিযানের সময় একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তাকে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সংঘর্ষে চার সন্ত্রাসী নিহত হয়, পরে বিভিন্ন অভিযানে বাকি সন্ত্রাসীরাও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বলেন, “সন্ত্রাসীরা এখন শুধু আদর্শিক তৎপরতায় নয়, ব্যাংক ডাকাতির মতো সংগঠিত অপরাধেও যুক্ত হচ্ছে। যারা রাস্তায় নামবে, তারা পরাজিত হবে, আর যারা লুকিয়ে থাকবে, তাদের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে শনাক্ত করা হবে।”
তিনি বেলুচিস্তানের দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাকেও তুলে ধরেন। কম জনবসতিপূর্ণ সাঙ্গান এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপন হলেও, নিয়ন্ত্রণহীন ৪জি নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী ৩০০ কোটি রুপি মূল্যের একটি প্রাদেশিক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় বেলুচিস্তানজুড়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে, যা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করবে এবং অপব্যবহার রোধে নজরদারিও নিশ্চিত করবে।