
দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েতে টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। নদী উপচে পড়া এবং ভেঙে পড়া অবকাঠামোর কারণে বহু এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো ও এমপুমালাঙ্গা প্রদেশে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়া বা বাড়ির ছাদ ও গাছে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। জিম্বাবুয়ের সীমান্তবর্তী একটি চেকপোস্টও বন্যার পানিতে ঘিরে পড়ায় নিরাপত্তা কর্মীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বৃহস্পতিবার লিম্পোপোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, এক সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় ৪০০ মিলিমিটার (১৬ ইঞ্চি) বৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, একটি জেলায় ৩৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। লিম্পোপোর প্রিমিয়ার ফোফি রামাথুবা উল্লেখ করেন, প্রদেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
প্রতিবেশী জিম্বাবুয়েতে চলতি বছরের শুরু থেকে বন্যায় অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, এক হাজারের বেশি বাড়ি ভেঙে পড়েছে, এছাড়াও বহু স্কুল, সড়ক ও সেতু পানির তোড়ে ধ্বংস হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোজাম্বিক। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিক তীব্র বর্ষার ফলে দেশটিতে ১০৩ জন নিহত হয়েছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে বন্যা, বজ্রপাত, অবকাঠামো ধস এবং দূষিত পানির কারণে ছড়িয়ে পড়া কলেরাজনিত প্রাণহানি।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই লাখের বেশি মানুষ এই দুর্যোগে প্রভাবিত হয়েছে। হাজার হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, বন্যার পানিতে ৭০ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে, যা দারিদ্র্য ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ অঞ্চলের ছোট কৃষকদের খাদ্যসংকট আরও বাড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার অন্তত সাতটি দেশে বন্যা দেখা দিয়েছে বা আশঙ্কা রয়েছে, যা লা নিন্যা আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই আবহাওয়া সাধারণত অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত নিয়ে আসে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। পার্কের প্লাবিত ক্যাম্প থেকে প্রায় ৬০০ পর্যটক ও কর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে নদী উপচে পড়ায় পার্কের বড় অংশ এখন যাওয়ার অনুপযোগী হয়ে গেছে।