
দেশে অস্ত্র পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি বলেছেন, একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে অব্যাহতভাবে অস্ত্র প্রবেশ করছে। এই পরিস্থিতি রাজনীতিবিদদের হাতে নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে নগরের গুডস হিল এলাকায় তাঁর পারিবারিক বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্ত পার হয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র আসা এবং প্রশাসনের ভেতরে ফ্যাসিবাদের অনুসারীদের সক্রিয়তা—এই দুই বিষয় নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগের কথা জানান।
রাউজানে সহিংসতার দায় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসা উচিত। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও বিকৃত তথ্যের কারণে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির বিষয়েও সতর্ক করেন।
সম্প্রতি রাউজানে যুবদলের এক কর্মী নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ওই ব্যক্তি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং তার চিকিৎসার জন্য সহায়তা করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘তার ঘরে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ এ ধরনের ঘটনার দায় শুধু ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসীদের নয়, প্রশাসনের ভেতরেও তাদের অনুসারীরা লুকিয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যাসিস্টদের হাতে বিপুল অর্থ রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সেই অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি ছোট দেশ—এখানে কে কোথায় কী করছে, তা দ্রুতই সবার কানে পৌঁছে যায়।
এ আসনে তাঁকে ও বিএনপির আরেকজনকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, বিকল্প মনোনয়ন একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তিনি স্পষ্ট করে জানান, দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনি তার পক্ষেই কাজ করবেন।