
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বালুবোঝাই ট্রাকের চাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রবিবার (ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে দেবীগঞ্জ পৌরসভার পাকড়িতলা এলাকায় বোদা-দেবীগঞ্জ মহাসড়কে মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের কাটনহারী আরাজী এলাকার হরি কিশোর বর্মনের ছেলে সমেশ চন্দ্র বর্মন। তিনি দেবীগঞ্জ পৌর শহরের মায়ের হাসি স্মার্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতেও কর্মস্থলে কাজ শেষ করে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন সমেশ। পথিমধ্যে পাকড়িতলা এলাকায় পৌঁছালে দেবীগঞ্জ শহরমুখী একটি বালুবোঝাই ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটি তাকে চাপা দিয়ে প্রায় ১৫ ফুট দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও পিষ্ট হন সমেশ। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটি জব্দ করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রাকচালক সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে পুলিশ। তিনি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাহ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনায় মৃতের বড় ভাই আপন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম মনিরুজ্জামান চৌধুরী জানান, নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় রবিবার রাতেই মামলা দায়ের হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকুড়িতলা এলাকায় মোড়টি সড়কের উভয় পাশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত। এ কারণে ভারী যানবাহনগুলো ওই অংশে এসে ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা করে। তবে মোড় অতিক্রম করার পরই সড়কটি হঠাৎ সঙ্কুচিত হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
তাদের আরও দাবি, যে স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে চালকদের সতর্ক করতে রাম্বল স্ট্রিপস দেওয়া হলেও তা মূলত ছোট যানবাহনের গতি কমাতে কার্যকর। ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে এটি তেমন গতি রোধ করতে পারে না। ফলে অনেক সময় দ্রুতগতির ট্রাকের নিচে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়তে হয় ছোট যানবাহনগুলোকে।