
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ব্যানার খুলে ফেলা ও পরিকল্পিত হয়রানির অভিযোগ তুলেছে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নে জিওপি প্রার্থী জসীম উদ্দিনের নির্বাচন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার সমর্থকেরা এসব অভিযোগ করেন। এতে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ সাইফুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন যুব অধিকার পরিষদ কুমিল্লা উত্তর জেলার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দিনের নির্বাচন প্রস্তাবকারী রাসেল হোসেন বেগ। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার সময় তাদেরকে নানাভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জসীম উদ্দিনের নিজ গ্রাম এলাহাবাদে এলাহাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে ট্রাক প্রতীকের একটি ব্যানার টানানো ছিল। এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকেরা সেটি খুলে সেখানে শাপলা প্রতীকের বিলবোর্ড স্থাপন করেন। তাদের প্রচার মাইকযুক্ত গাড়ি ওই পথে গেলে ব্যানার খুলে ফেলা হয় এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি দিয়ে সরে যেতে বলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া গত মঙ্গলবার এলাহাবাদ থেকে জাফরগঞ্জ সড়কের পাঁচটি ব্যানার খুলে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন রাসেল হোসেন। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হাসনাত আবদুল্লাহর নিজ ইউনিয়নের খাইয়ার গ্রামে একটি পলিয়েস্টার কাপড়ের ব্যানারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগানোর পরপরই অল্প সময়ের মধ্যে ভিডিও ধারণ করা হলেও আগুন দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করা হয়নি- এতে ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন বক্তারা। একই ধরনের ঘটনা হারসসার গ্রামেও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। এসব ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের কাছে একটি তালিকা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করে। আদালতে আপিল করেও তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাননি।