
চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম দেশে গুম ও খুনের রাজনীতি বন্ধ করে ইসলামের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুর-১ আসনের শিবচর নন্দকুমার মডেল ইনস্টিটিউশনের মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "তারা দেশে কোনো মায়ের কান্না শুনতে চান না এবং দুর্নীতিতে বারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গ্লানি থেকে মুক্তি চান।" এই লক্ষ্য অর্জনে সাধারণ মানুষকে ইসলামের পক্ষে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
সমাবেশে রেজাউল করীম তার রাজনৈতিক লক্ষ্য ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "বাংলার মানুষের মাঝে বর্তমানে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে এবং তরুণদের বুকে যে সাহস সঞ্চিত হয়েছে, তাতে আমি হাজী শরীয়াতুল্লাহর এই পুণ্যভূমিতে ইনসাফের শাসন কায়েম হওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।"
তিনি আরও মন্তব্য করেন, এদেশের মানুষ আর কোনো জমিদারি বা বংশপরম্পরার শাসন চায় না। সাধারণ মানুষ এখন তাদের অধিকার আদায়ের রাজনীতি, অর্থাৎ মেহনতি মানুষের পক্ষে কাজ করা রাজনীতিকেই গ্রহণ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
মাদারীপুর-১ আসনের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জনমত গঠনের সময় চরমোনাই পীর দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "এদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিএনপি পালায়, আবার বিএনপি এলে আওয়ামী লীগ পালায়; কিন্তু আমাদের প্রার্থী মাওলানা আকরাম হোসাইন যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তবে কাউকে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না।"
রেজাউল করীম প্রতিশ্রুতি দেন, ইনসাফ ও সাম্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তি আসবে এবং শোষণ থেকে তারা রেহাই পাবে। তার মতে, ইসলামী শাসনব্যবস্থা দেশের জন্য কার্যকর সুশাসনের পথ খুলে দিতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শিবচর উপজেলা শাখা আয়োজিত এই জনসভায় আলহাজ্ব আলী আহমদ চৌধুরী, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাওলানা এনামুল কবির কহিনুর এবং শিবচর উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ জাফর আহমদসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বাংলাদেশ ফরাজী আন্দোলনের মহাসচিব বি. এম. এমদাদুল হক এবং স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা একযোগে হাতপাখা প্রতীকের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।