
ডাকসু দিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা, তা জকসুতে এসে আপাতত থেমেছে—আর আগামী ১২ তারিখে ইতিহাস রচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের স্লোগান ছিল, আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো। সেই দিন শেষ। আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটা তুমি দাও। কিন্তু আমার ভোট কেড়ে নিতে আসলে হাত গুঁড়িয়ে দেবো।”
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জনসভাটির আয়োজন করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াত ইসলামী।
মঞ্চে উঠে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতার খোঁজখবর নেন জামায়াত আমির। পরে বক্তব্যে তিনি বলেন, মায়েরা আমাদের মাথার তাজ এবং তাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকদিন ধরে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। “লেগে লাভ হবে না, নিজেরাই ফেঁসে যাবে”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্য করা হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। আমি, আমরা, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে চাই না। ক্ষমতায় আসবে ১৮ কোটি মানুষ। আমরা যেন রাষ্ট্রের সবকিছু বণ্টন করে দিতে পারি। যারা ১৩ তারিখ থেকে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান, তারা ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে দেশে কিছুই হয়নি—এ কথা বললে ভুল হবে। তবে যতটা উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। কারণ, যারা ভোটের আগে মিষ্টি কথা বলেছে, ভোট শেষ হতেই তারা সুর পাল্টে ফেলেছে।’
জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাইয়ে স্লোগান ছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস (আমরা ন্যায়বিচার চাই)। তোমার পাওনা তুমি নাও, আমার পাওনা আমাকে দাও।’
ভোট কেনাবেচার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায়, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে দেশের অতি শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা বলে দিয়েছে—আমরা চাঁদাবাজদের পক্ষে নেই।’
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা দলীয় সরকারের রাজত্ব কায়েম করতে চাই না, পরিবারতন্ত্র চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের সরকার।’
বক্তব্যের শেষে তিনি চট্টগ্রাম উত্তরাঞ্চলের সাতটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।