
প্রচারণার শেষ দিনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে গণমিছিল করেছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এদিকে বিএনপি ও জামায়াতের গণমিছিলে এসে হার্ট অ্যাটাক করে দুই দলের দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গণমিছিলে এসে হার্ট অ্যাটাক করলে নেতাকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল তাদের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন। সোমবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির ধানের শীষে ভোট চেয়ে শহরের আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে গণমিছিলটি শুরু করা হয়।
এর আগে বিকেলে শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকা থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চেয়ে গণমিছিল করে দলের নেতাকর্মীরা।
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত বিএনপির গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মিছিলে ধানের শীষে ভোট চেয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বিকেলে ১১ দলীয় জোটের গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এ সময় দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে শ্লোগান দেন দলটির নেতাকর্মীরা। বিএনপি ও জামায়াতের গণমিছিল দুটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঝুমুর এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে নির্বাচনী আলাদা গণমিছিলে এসে নিহতরা হলেন- আব্দুস সহিদ ও ওবায়দুল হক। এরমধ্যে সহিদ জামায়াতে কর্মী ও ওবায়দুল বিএনপি কর্মী বলে জানা গেছে। মৃত সহিদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা ও অপর মৃত ওবায়দুল একই এলাকার আব্দুল মুনাফের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিকেলে জামায়াতের মিছিলে আসার পথে সহিদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সন্ধ্যায় বিএনপির গণমিছিলে এসে বিএনপিকর্মী ওবায়দুল অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ওবায়দুলকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অরুপ পাল বলেন, আলাদা দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তারা হৃদযন্ত্রের ক্রীড়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।