
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানের হত্যা মামলায় বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযানে ১ মার্চ ও ২ মার্চ তাঁদের আটক করা হয়।
সোমবার (০২ মার্চ) জীবননগর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। আটকরা হলেন—হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান, তাঁর বাবা বিএনপির কর্মী জসিম উদ্দিন এবং হাসাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সালাম।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সোলায়মান জানান, জসিম উদ্দিন ও আবদুস সালামকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার রাতে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে হাসাদহ বাজার এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মধ্যরাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জেলা জামায়াত নেতারা ঘটনাটিকে ‘বর্বরোচিত’ বলে উল্লেখ করে দায়ীদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালাতে না পারে, সে জন্য বিজিবির সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।