
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন সজিব (২৫) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় আরও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গোপ্তাখালী আমতলী এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খোরমাওয়ালা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন ও আলিমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাহাবুদ্দিনের সমর্থকেরা আলিমের দোকানের সামনে গিয়ে হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
আলিমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় শাহাবুদ্দিনের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালায়। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে এবং আলিমকে অপহরণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ভুল করে সজিবকে আলিম ভেবে কুপিয়ে ও মারধর করে হত্যা করা হয়।
তবে শাহাবুদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চাল বিতরণ নিয়ে কোনো বিরোধ হয়নি। বরং রিকশার ব্যাটারি চুরির টাকার লেনদেন নিয়ে আলিমের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল। পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুর ইসলাম বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৮ জন। ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য পুলিশের টিম কাজ করছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।