
অসুস্থ হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সাধারণ রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবার খাওয়ায় প্রশংসা কুড়াচ্ছেন নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া এবং অন্য রোগীদের মতোই হাসপাতালের খাবার গ্রহণ করার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত সোমবার (৯ মার্চ) সকালে গ্যাস্ট্রিক ও হাইপার টেনশনজনিত সমস্যায় তিনি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। একজন সংসদ সদস্য হয়েও সরকারি হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একইভাবে চিকিৎসা নেওয়ায় সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই বিস্মিত ও আনন্দিত হন।
ধামইরহাটের রাঙ্গামাটি এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। হঠাৎ করে দেখি এমপি সাহেব হাসপাতাল এসেছেন। আমরা মনে করেছিলাম তিনি হয়তো পরিদর্শনের জন্য এসেছেন। পরে জানতে পারি তিনি অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তির জন্য এসেছেন। আগে কখনো কোনো এমপিকে এভাবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেখিনি। এমপি সাহেব অনেক সহজ সরল মানুষ। আমরা তার সুস্থতা কামনা করছি।”
এদিকে হাসপাতালের বেডে বসে খাবার খাওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন সংবাদকর্মী তাসলিমা পারভীন। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেন, “ইনি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। নওগাঁ-২ আসনের নির্বাচিত এমপি। হঠাৎ শারিরীক অসুস্থতায় তিনি দেশের নামকরা হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি নামি-দামি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছুটে যাননি। থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভরসা করেছেন সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর। সাধারণ রোগীদের বেডে থেকেছেন। খেয়েছেন রোগীদের জন্য সরবরাহ করা সাধারণ খাবার। বিষয়টা অসাধারণ।”
তিনি আরও লেখেন, “দেশের মন্ত্রী-এমপিরা অসুস্থ হলে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। তাদের ছেলে-মেয়েরা স্থানীয় সরকারি স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করবে। দেশের আর ১০ জন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করবেন। এমন চিত্র আমরা সারা দেশে দেখতে চাই।”
ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিষ কুমার সরকার জানান, “গত সোমবার সকালে এমপি মহোদয় কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। উনি গ্যাস্ট্রিক ও হাইপার টেনশনজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন দুপুর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারও খান। হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার পর তিনি আমাদের সেবার প্রশংসা করেছেন। উনি আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এটাই বড় বিষয়। এ ধরনের লোকজন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থা পাবে।”
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য এনামুল হক বলেন, “আমি চাইলে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট কিংবা নওগাঁয় কোনো বড় হাসপাতাল কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে পারতাম। কিন্তু আমার এলাকার মানুষ সার্বক্ষণিক যেখানে চিকিৎসা নেয় সেখানেই চিকিৎসা নিতে চেয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন আমি অনেকটাই সুস্থ। আমার বিশ্বাস, সীমিত সক্ষমতা নিয়েও হাসপতালের চিকিৎসক ও অন্যান্য স্টাফরা আন্তরিক হলে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব।”