
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর চরম সংকটে পড়া দুর্গত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আন্তর্জাতিক সংহতির অনন্য নজির স্থাপন করতে এবার সরাসরি উপদ্রুত এলাকায় হাজির হলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত ও চরম দুর্ভোগে পড়া অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে তিনি জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন।
শনিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সাতকানিয়ার কেওচিয়া ইউনিয়নের কেওচিয়া মুজাহেরুল হক ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কারণে গৃহহীন ও সংকটাপন্ন পরিবারগুলোর দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে আলজেরীয় রাষ্ট্রদূত ড. সাইদানি স্বয়ং উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওয়ানুষঙ্গিক সামগ্রী সংবলিত ত্রাণের ব্যাগ তুলে দেন। এ সময় তিনি বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করেন। একই সাথে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটের এই কঠিন সময়ে সমাজের নিরন্ন ও অসহায় জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।
সরেজমিনে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সরাসরি ত্রাণ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি চলমান বন্যায় মাঠপর্যায়ে যাওয়া প্রথম সারির বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের একজন হিসেবে নিজেকে দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করলেন। দুর্গত এলাকায় তার এই সরাসরি অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মহলের মানবিক কূটনীতি এবং বন্যার করাল গ্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি এক দৃঢ় ও অকপট সহমর্মিতার বার্তা দেয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়ার ইতিহাসে বন্যাকবলিত সাধারণ মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে কোনো বিদেশি কূটনীতিকের পা রাখার ঘটনা এটিই প্রথম। ফলে এই ব্যতিক্রমী সফরটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে এবং একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
সাতকানিয়ায় এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর রাষ্ট্রদূত সাইদানি সরাসরি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানেও তিনি বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সমপরিমাণ পরিবারের মধ্যে একই ধরনের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। একদিনে পর পর দুইটি দুর্গত এলাকায় তার এই ঝটিকা সফর প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের দ্বারে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রতি তার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃঢ় অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।
সহায়তা পাওয়া বন্যাকবলিত গ্রামীণ বাসিন্দারা আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের এই সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপের জন্য তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। তারা জানান, এই খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তাদের বর্তমান তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে এবং বন্যাজনিত দুর্ভোগের ধাক্কা সামলে উঠতে দারুণভাবে সহায়তাকরবে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি আলজেরিয়ার সরকার ও জনগণের গভীর মানবিক উদ্বেগ ও সংহতির এক সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে কাজ করবে।
সাতকানিয়া ও মাতারবাড়ীর পানিবন্দি এবং উপদ্রুত জনগণের প্রতি গভীর সহানুভূতি, অবিচল সংহতি এবং আগামী দিনেও অব্যাহত সহযোগিতার বার্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই মানবিক ও তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর সমাপ্তি ঘটে।