
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যা মামলায় অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রধান আসামি তার বাবা। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে খুলনার ডুমুরিয়া থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে মেয়ের মরদেহ বস্তাবন্দী করে খুলনা নগরের নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে আলিম হোসেন ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খুলনা নগরের বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকেই আলিম হোসেনকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। তবে তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতেও তাকে গ্রেপ্তারের একটি পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে শনিবার তিনি আবার ডুমুরিয়া বাজার এলাকায় ফিরে এলে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। বর্তমানে তাকে সদর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং রোববার আদালতে হাজির করা হবে।
এর আগে গত ১১ জুলাই খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, নিহত আরফানার মা আরিফা ইয়াসমিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাবাকে গ্রেপ্তারের অভিযান আরও জোরদার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিজের সিদ্ধান্তে বিয়ে করেছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনা হলেও তিনি আবার সেখানে ফিরে যেতে অনড় ছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় একই বিষয় নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে আরফানাকে মারধর করেন তার মা। পরে বাবা কাঠের একটি ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মা ও বাবা—দুজনেই মাদকাসক্ত।
হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে আরফানার মরদেহ কবুতরের খাবার বহনে ব্যবহৃত একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যান আলিম হোসেন।
মরদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরদিন সদর থানার উপপরিদর্শক লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আরফানার মা মরদেহ শনাক্ত করেন। তদন্তের শুরুতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।