
ঈদের ছুটিতে মানুষের ঢলে মুখরিত কক্সবাজার সৈকত, আর সেই ভিড়েই বাড়ছে শিশু হারানোর উদ্বেগজনক ঘটনা। মাত্র কয়েকদিনেই একের পর এক শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতায় তাদের সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ছুটির এই সময়ে প্রতিদিনই সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। অভিভাবকদের সঙ্গে বেড়াতে আসা অনেক শিশু ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে, যার মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে অসতর্কতা। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে নির্ভরযোগ্য ভরসা হয়ে উঠেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
ঈদের ছুটির গত তিন দিনে কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া ২৫ শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা।
মঙ্গলবার ও বুধবার ২৪ ও ২৫ মার্চ কলাতলী থেকে সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে। এই সময়ের ভিড়ে অন্তত ১২টি শিশু দলছুট হয়ে পড়ে। পরে তাদের খুঁজে বের করে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর।
এর আগে সোমবার ২৩ মার্চ সৈকতের বিভিন্ন স্থান থেকে ১২টি শিশু হারিয়ে যায়। রোববার ২২ মার্চ তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। শনিবার ঈদের দিন সন্ধ্যায় হারিয়ে যায় আরও একটি শিশু। গত চার দিনে মোট ২৮ শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে সুগন্ধা পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের পাশে কান্নারত অবস্থায় পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে পাওয়া যায়। একই সময়ে নেত্রকোনা থেকে আসা মাহাবুব তার ৬ বছরের ছেলে মাহাদী এবং নারায়ণগঞ্জের আক্তার হোসেন তার ১৩ বছরের সন্তান আতিককে হারিয়ে পুলিশের সহায়তা চান।
ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই সুব্রত বাড়ৈ এবং সদস্য মুহাম্মদ ফরিদ দীর্ঘ সময় ধরে মাইকিং করে চার শিশুর অভিভাবকদের খুঁজে বের করেন এবং তাদের কাছে সন্তানদের তুলে দেন। সন্তানদের ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজনরা।
এদিকে, বেলা দেড়টার দিকে ঢাকার উত্তরা থেকে আসা ইব্রাহিম দম্পতি তাদের ১১ বছর বয়সী মেয়েকে হারিয়ে ফেলেন। আধা ঘণ্টা ধরে সৈকত ও ঝাউবাগান এলাকায় খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
একই দিন দুপুর ২টার দিকে সুগন্ধা সৈকত থেকে নিখোঁজ হয় রূপগঞ্জের ১২ বছরের মাহমুদ। বাবা-মা সমুদ্রে নামার পর ভিড়ের মধ্যে সে হারিয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তায় তাকে ফিরে পান তার বাবা আল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘কীভাবে আয়ান হারিয়ে গেল বুঝতে পারিনি। টুরিস্ট পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হারিয়ে যাওয়া শিশুদের অধিকাংশের বয়স ৫ থেকে ১২ বছরের মধ্যে এবং মেয়েশিশুর সংখ্যাই বেশি।
এসআই সুব্রত বাড়ৈ জানান, ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। অনেকেই সন্তানদের বালুচরে রেখে নিজেরা সমুদ্রে নামেন, আর সেই সুযোগেই শিশুরা ভিড়ে হারিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, হারিয়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুত উদ্ধার এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সৈকতের তিনটি পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে।