
চৈত্রের তীব্র রোদে দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরশহরের কলাবাগান এলাকায় মেসার্স সরকার ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে মোটরসাইকেলচালকরা জ্বালানি তেলের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। গরমে ঘাম ঝরছে, কেউ হেলমেট খুলে ছাতা মাথায় নিলেও রোদ আর তৃষ্ণার জ্বালা কমছে না।
এ সময় স্থানীয় যুবক কাজল হোসেন (২৫) নিজ উদ্যোগে তৃষ্ণার্তদের জন্য পানি নিয়ে হাজির হন। তিনি জগ ও গ্লাসে পানি ভরে এক এক করে চালকদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন।
কাজল হোসেন বলেন, ‘পাম্পে তেল কিনতে আসা মানুষগুলো রোদে দাঁড়িয়ে অনেক কষ্ট পাচ্ছে। আশপাশে কোথাও পানি পান করার সুযোগ নেই। তাদের এই কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগছিল। তাই তাদের জন্য পানি নিয়ে আসি। যতদিন তেলসংকট থাকবে, ততদিন যারা তৃষ্ণার্ত হবেন তাদের পানি দেওয়া অব্যাহত থাকবে।’
কাজল হোসেন ওই এলাকার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় মাংস ব্যবসায়ী। ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেলচালকরা তার এ উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন। মুকুন্দপুর গ্রামের একরামুল হক বলেন, ‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়ে শরীর ও গলা একেবারে শুকিয়ে যাচ্ছে। এই যুবক সবাইকে পানি দিচ্ছে, এটা দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিরামপুরে তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেলের সংকট চলতে থাকায় রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই সময় কাজল হোসেন মহাসড়কের পাশে এক বাড়ির নলকূপ থেকে পানি এনে তৃষ্ণার্তদের গ্লাসে ঢেলে দিচ্ছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল জানান, সরকারি বরাদ্দে পাম্পে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই, তবে নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ক্লাবের মাধ্যমে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।