
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটি বাড়ি থেকে বিলুপ্তপ্রায় বড় আকৃতির একটি তক্ষক উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুকুরপাড়ের মেহগনি বাগানে প্রাণীটি অবমুক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ।
এর আগে ভোরে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ঘোষেরচর উত্তরপাড়া এলাকার মো. তবিবুর রহমান মোল্লা ও পাতা বেগম দম্পতির ঘর থেকে তক্ষকটি উদ্ধার করা হয়।
পাতা বেগম জানান, ভোরে নামাজের সময় ঘরের ভেতর অস্বাভাবিক শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যদের ডাকেন। পরে তারা বড় আকৃতির একটি তক্ষক দেখতে পান। পরে সেটিকে একটি খাঁচায় আটকে রাখা হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইউএনও কৌশিক আহমেদ বলেন, এটি গিরগিটি প্রজাতির একটি প্রাণী, যার ইংরেজি নাম Gekko। এটি নির্বিষ এবং বিপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, গাছের ফোকর বা ঘরের কোণে এরা বসবাস করে।
পরে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের সহযোগিতায় প্রাণীটিকে উপজেলা পরিষদের মেহগনি বাগানে অবমুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, তক্ষক (ইংরেজি: Gecko, বৈজ্ঞানিক নাম:Gekko gecko) গেকোনিডি গোত্রের একটি গিরগিটি প্রজাতি। পিঠের দিক ধূসর, নীলচে-ধূসর বা নীলচে বেগুনি-ধূসর। সারা শরীরে থাকে লাল ও সাদাটে ধূসর ফোঁটা। পিঠের সাদাটে ফোঁটাগুলি পাশাপাশি ৭-৮টি সরু সারিতে বিন্যস্ত। কমবয়সী তক্ষকের লেজে পরপর গাঢ়-নীল ও প্রায় সাদা রঙের বলয় রয়েছে। মাথা অপেক্ষাকৃত বড়, নাকের ডগা চোখা ও ভোঁতা। চোখ বড় বড়, মণি ফালি গড়নের।
লেজ সামান্য নোয়ানো। দৈর্ঘ্য নাকের ডগা থেকে পা পর্যন্ত ১৭ সেমি এবং লেজও প্রায় ততটা। তক্ষকের ডাক চড়া, স্পষ্ট ও অনেক দূর থেকে শোনা যায়; ডাকের জন্যই এই নাম। কক্কক্ আওয়াজ দিয়ে ডাক শুরু হয়, অতঃপর ‘তক্-ক্কা’ ডাকে কয়েক বার ও স্পষ্টস্বরে। এরা কীটপতঙ্গ, ঘরের টিকটিকি , ছোট পাখি ও ছোট সাপ খেয়ে থাকে। ছাদের পাশের ভাঙা ফাঁক-ফোঁকড় বা গর্তে কিংবা গাছে বাস করে।
তক্ষক দক্ষিণ এশিয়ায় বিপর্যস্ত একটি প্রাণী। ব্যাপক নিধনই বিপন্ন হওয়ার কারণ। অনেকে ভুলক্রমে তক্ষককে বিষাক্ত সরীসৃপ হিসেবে চিহ্নিত করে। বাংলাদেশসহ মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৬০০ প্রজাতির তক্ষকের বাস।
বাংলাদেশে প্রায় ২ প্রজাতির তক্ষক দেখা যায়। এশিয়ান প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও আধুনিক চিকিৎসায় হাঁপানি, এইডস, ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কার্যত এ ঔষধ ও পরীক্ষা ফলপ্রসূ না হলেও তক্ষকের বিলুপ্তি ও শিকার চলছে অবৈধভাবে এবং অহরহ।