
চট্টগ্রামে তীব্র আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
পিডিবি ও চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পাঠানোর কারণে স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং করতে হয়।
এর আগে বেলা ১১টায়ও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রায় ৯১ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়।
বন্ধ রয়েছে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র
স্কাডার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০টি কেন্দ্র বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এনলিমা, জুডিয়াক, জুলধা-২ ও ৩, রাউজান-১ ও ২ এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট।
এছাড়া বড় কেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে এবং কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটির মধ্যে মাত্র দুটি ইউনিট চালু রয়েছে।
দুটি কেন্দ্রের ওপর চাপ
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করছে বাঁশখালী ও শিকলবাহা কেন্দ্রের ওপর। পাশাপাশি মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার থেকেও কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
নগরজুড়ে দুর্ভোগ
চকবাজার, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪–৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে ওয়াসার পানির সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে পানির সংকটও তীব্র হয়েছে।
বাসিন্দারা বলছেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে।
কারণ ও আশঙ্কা
পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণেই একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, গরম আরও বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।