
ভুট্টার আড়ালে ফেন্সিডিল পাচারের এক পুরনো মামলায় লালমনিরহাটের এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) লালমনিরহাট স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. রওশন আলম আসামিদের উপস্থিতিতে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
ফেন্সিডিল পাচার ও সাজা
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ুন আহমেদ কবির এবং একই উপজেলার টিপের বাজার এলাকার সেকেন্দার আলী। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার প্রেক্ষাপট
ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালের ১৬ মে। ওইদিন লালমনিরহাট সদর ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালায় পুলিশ। দেখা যায়, বস্তাভর্তি ভুট্টার নিচে অত্যন্ত সুকৌশলে ৩৪৪ বোতল ফেন্সিডিল পাচার করা হচ্ছিল। পাচারকালে হাতেনাতে চেয়ারম্যান হুমায়ুন আহমেদ কবির ও সেকেন্দার আলীকে আটক করা হয়। উক্ত ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানার তৎকালীন এসআই আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মাদক মামলা দায়ের করেন।
আদালতের রায় ও আইনি প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট জিন্নাত আরা ফেরদৌসী রোজি রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "মাদকমুক্ত বাংলাদেশ করতে এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"
উল্লেখ্য, রায় ঘোষণার পরপরই পুলিশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে নিয়ে যায়। জনপ্রতিনিধির এমন সাজায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।