
দুর্নীতির মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্তির একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও শেষ রক্ষা হলো না জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের। বিগত জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম এই আদেশ মঞ্জুর করেন, যার ফলে আপাতত কারাগারেই থমকে গেল এই অর্থনীতিবিদের মুক্তি।
আদালতের প্রসিকিউশন শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম এই আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
ফিরে দেখা যায়, গত বছরের ১০ জুলাই ধানমণ্ডির নিজস্ব বাসভবন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে অবৈধভাবে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়া ও আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত ৭ জুন ওই নির্দিষ্ট মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে জামিন লাভ করেন তিনি। তবে সেই জামিনের কাগজ মূলে কারাগার থেকে বের হওয়ার আগেই নিউ মার্কেট থানার আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) জন্য আদালতে আবেদন জমা দেয় ডিবি পুলিশ।
আজ রোববার (১৪ জুন) ওই আবেদনের ওপর আদালতে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় অধ্যাপক আবুল বারকাতকে সশরীরে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়েছিল। এ সময় তাঁর প্রধান আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম তাকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর জন্য জোর দাবি জানালেও আদালত তা সরাসরি নাকচ করে দেন। আবুল বারকাতের প্যানেল আইনজীবী বাবুল মিয়া জানান, আইনি মারপ্যাঁচে তাঁর মক্কেলের কারামুক্তি এখন সম্পূর্ণভাবে আটকে গেছে এবং কারাগার থেকে বের হতে হলে এখন এই নতুন হত্যা মামলাটিতেও তাঁকে নতুন করে জামিন পেতে হবে। এই মামলার জামিন চেয়ে ইতিমধ্যেই আবেদন করা হয়েছে এবং আগামীকাল সোমবার (১৫ জুন) এর ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার এজাহার বিবরণী ও গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া আবেদনপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউ মার্কেট থানার অন্তর্গত নীলক্ষেত মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে তাঁর শ্যালক আব্দুর রব বাদী হয়ে নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের মোট ১৩০ জন শীর্ষনেতাকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়।
অধ্যাপক বারকাতকে এই মামলায় জড়ানোর বিষয়ে পুলিশের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনার দিন (১৯ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ দমনের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেওয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য বিপুল অঙ্কের আর্থিক যোগান দিয়েছিলেন অধ্যাপক আবুল বারকাত।