
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে তৈরি করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীর বাগমারায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধরের অভিযোগে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, “ভুল স্বীকার করায় পরিবারের জিম্মায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাদী না থাকায় ও আমলযোগ্য অপরাধ না হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো যায়নি।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আবদুল কাদের নামে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সজীব’ নামে পরিচিত। বুধবার (১৩ মে) রাতে যুবদল, তাঁতী দল ও বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী তাকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, একজন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে আপত্তিকরভাবে উপহাস করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে। ‘ডিয়া ব্লগ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও। এর আগে শুক্রবার (৮ মে) নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন ঘিরেই ভিডিওটি তৈরি করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ‘ছতর জুটি’ নামে পরিচিত শিমুলের নেতৃত্বে কয়েকজন কনটেন্ট নির্মাতা ব্যক্তিগত গাড়িতে পতিসরের পথে বিভিন্ন স্থানে থেমে ভিডিও ধারণ করছেন। সেখানে মন্ত্রীকে নিয়ে ট্রলধর্মী মন্তব্য করা হয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পরে ভিডিওটি মূল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও সেটির বিভিন্ন অংশ অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আবদুল কাদের আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে কান ধরে ক্ষমা চান। সেখানে তিনি বলেন, তিনি মূলত মজার ভিডিও তৈরি করেন এবং একই ধারাবাহিকতায় ওই ভিডিওটিও বানিয়েছিলেন।