
ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার জাল ছিন্ন করে তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিতে দেশের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একটি মহল এখনো দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এই ধরনের যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করতে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে সর্বদা সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের সদ্যঘোষিত রুহিয়া উপজেলার রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।" এলাকার শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই সেখানে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর সচল করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি পুরোদমে চালু করা হয়েছে। সরকারের চলমান এই উন্নয়ন ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এবং অবহেলিত গ্রামীণ জনপদের যেসব রাস্তাঘাট এখনো কাঁচা রয়ে গেছে, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পাকাকরণ করা হবে।
রুহিয়াবাসীর নতুন উপজেলা পাওয়ার এই ঐতিহাসিক ক্ষণে এলাকার প্রয়াত রাজনীতিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আজকের এই আনন্দের দিনে অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। তবে রুহিয়াকে উপজেলা করার পেছনে তাদের যে অবদান, তা এই অঞ্চলের মানুষ আজীবন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে।
নির্বাচনে দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করেছেন এবং জনগণের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই জন্য তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় তারেক রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেছেন, যা পুরো জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়। এই অর্জনকে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় সুখবর হিসেবে আখ্যা দিয়ে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে যুবসমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুব সমাজকে মাদকের মরণছোবল থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে। নিজেদের সৎ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলে আগামী দিনের নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে এবং দেশের অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক অবদান রাখতে হবে।
স্মরণীয় এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরুর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের ফলক উন্মোচন ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উক্ত সংবর্ধনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।