
সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ওঠাতে অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর এক নারীকে তার শিশুসহ চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রেনের স্টাফ দুলালের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ জুন) শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টিকিট না পাওয়ায় কয়েকজন যাত্রী ট্রেনের স্টাফ দুলালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় এক দম্পতি ও তাদের শিশুসন্তানকে ট্রেনে তোলার জন্য ২ হাজার টাকা এবং অপর এক যাত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দুলাল যাত্রীদের ট্রেনের দরজার সামনে নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেন। ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে হর্ন বাজলে এক নারী তার শিশুকে নিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। তখন দুলাল তাকে জোরে ধাক্কা দিলে তিনি শিশুসহ প্ল্যাটফর্মে পড়ে যান। অল্পের জন্য শিশুটি ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু ওই নারীই নন, আরও কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকেও ট্রেনে ওঠানোর কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ট্রেন ছাড়ার সময় দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কাউকে উঠতে দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ যাত্রীরা শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে নানা ধরনের টালবাহানার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায়, কম্পিউটার পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ উপস্থিত নেই। পরে দায়িত্বরত রেলওয়ে পুলিশ বিষয়টি তাদের দায়িত্ব নয় বলে জানায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ একে অপরের ওপর দায় চাপাতে থাকায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় পার হয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা স্থানীয় সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হলে কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। তবে তখনও নেটওয়ার্ক ও ওয়াই-ফাই সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে ফুটেজ প্রদর্শন করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
একপর্যায়ে কর্তব্যরত এসআই কাদির সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণে সম্মত হন। তবে জিডি সম্পন্ন হওয়ার পর ভুক্তভোগীদের হাতে দেওয়া রিসিভ কপিতে সিল ও স্বাক্ষর দিতে অনীহা প্রকাশ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে ভুক্তভোগীদের চাপে সিল ও স্বাক্ষরসহ জিডির কপি প্রদান করা হয়।
এবিষয়ে একজন ভুক্তভোগী জোবেদা ঢাকাওয়াচ কে বলেন, আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা ছিল তার মধ্যে দু হাজার টাকা দুলাল নিয়ে চলে জান এখন তিনি চট্টগ্রাম কিভাবে যাবেন।
আরেক ভুক্তভোগী নাসিমা বলেন, আমাদের টাকা গেছে, কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দিতে গেলে তারা আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্টাফ দুলাল, শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা