
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাত্র সাত বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত দুই মাদকাসক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গা শিউরে ওঠা এই পাশবিক ঘটনার পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের আইনের আওতায় আনে।
এর আগে, শনিবার (৬ জুন) রাতে নির্যাতিতা শিশুটির নানী বাদী হয়ে ওই দুই কিশোরের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— উপজেলার সীমান্তবর্তী কলাগাঁও পশ্চিম পাড়ার আতিকুল ইসলাম রনির ছেলে রিসাতুল ইসলাম রিসাল এবং একই এলাকার আল আমিনের ছেলে সাকিবুল মিয়া।
আজ রোববার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন (পিপিএম) দুই কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলাগাঁও পশ্চিম পাড়ার ইয়াবাসেবী বখাটে কিশোর রিসাতুল ইসলাম রিসাল ও তার সহযোগী সাকিবুল মিয়া ওই শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় একটি টয়লেটের ভেতর আটকে রেখে শিশুটির ওপর পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন চালায় এবং সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটি কোনোমতে বাড়ি ফিরে তার পরিবার, প্রতিবেশী এবং অভিযুক্ত কিশোরদের বাবা-মাকে বিষয়টি অবগত করে।
ধর্ষণের ফলে শিশুটির প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তা বন্ধ না হওয়ায় পরদিন শুক্রবার অভিযুক্ত এক কিশোরের মা নিজেই শিশুটিকে স্থানীয় কলাগাঁও বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং ৪০০ টাকার ওষুধ কিনে দেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে থানায় আইনি পদক্ষেপ না নিতে এবং সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য না যেতে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে নানাভাবে বাধা প্রদান করেন অভিযুক্তের মা এবং কলাগাঁও বাজারের স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ওরফে বুরুজ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ওরফে বুরুজ রক্তক্ষরণ কমানোর জন্য শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “গণধর্ষণ হয়েছে কিনা জানি না, আমি ভিকটিমের পরিবারকে থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা না নিতে কোনো বাধা দেইনি।”
এদিকে, কোনোভাবেই রক্তক্ষরণ বন্ধ না হয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে, অবশেষে শনিবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসা ও আইনি প্রতিকারের আশায় তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং থানায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আজ রোববার গ্রেফতারকৃত দুই কিশোরকে সুনামগঞ্জের শিশু আদালতে হাজির করলে, বিজ্ঞ বিচারক সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামিদের গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তাহিরপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুশংকর পাল জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর তার অভিভাবকদের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশবিক এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সকল বিষয় খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে।