
ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সোহেল ফকিরের পরিবারে নতুন অতিথির আগমন ঘটেছে। দুর্ঘটনার প্রায় তিন মাস পর তাঁর স্ত্রী রেশমা আক্তার রুবা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে নবজাতকের আগমনের আনন্দের মধ্যেও স্বামী ও শ্বশুরকে হারানোর শোক এবং অর্থকষ্টে দিন কাটছে পরিবারটির।
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ ফকির ছেলে সোহেল ফকির ও পুত্রবধূ রুবাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। সোহেল ও তাঁর বাবা সাভারের একটি ট্যানারিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে তারা ঢাকার সদরঘাটে যান। ট্রলার থেকে লঞ্চে ওঠার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। ঘটনাস্থলেই নিহত হন সোহেল ফকির। বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়ে যাওয়া তাঁর বাবা মিরাজ ফকিরের মরদেহ পরদিন উদ্ধার করা হয়। সে সময় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুবা গুরুতর আহত হন এবং দীর্ঘদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে বরিশাল নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবজাগরণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে মো. রাইয়ান ইসলাম।
রুবা বলেন, ‘আমি গর্ভবতী হওয়ার পর স্বামী সোহেলের ইচ্ছা অনুযায়ী নবজাতকের নাম রাখা হয় রাইয়ান।’ তবে সন্তানের জন্মের পর পরিবারে নতুন করে দুশ্চিন্তাও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
রুবার বাবা রিয়াজ মীর দিনমজুরের কাজ করেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে তাঁর সংসার চলে কষ্টে। স্বামীকে হারানোর পর রুবা ও তাঁর সন্তানকে নিয়ে পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
রুবার নানি নাজমা বেগম জানান, ঢাকায় কয়েক মাস হাসপাতালে রেখে রুবার চিকিৎসা করাতে হয়েছে। ওষুধের খরচ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বহন করলেও ঢাকায় থাকা, যাতায়াত এবং অন্যান্য ব্যয় মিলে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এজন্য পরিবারকে ধারদেনাও করতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে একাধিকবার বিআইডব্লিউটিএর ডাকে ঢাকায় যেতে হয়েছে। পরে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী এলাকায় এসে ক্ষতিপূরণের অর্থ হস্তান্তর করবেন। তবে এখন পর্যন্ত পরিবারটি কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি।