
রাজধানীর রামপুরায় মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীর ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হওয়া শিহাব হোসেন আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ১৯ বছর বয়সী এই আসামির জবানবন্দি আদালত রেকর্ড করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আসামি স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর সেই আবেদন মঞ্জুর করে জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নারী-শিশু জিআর শাখার উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৯ মে রাত ৮টার দিকে পাবনার বেড়া উপজেলার খাকছাড়া গ্রাম থেকে শিহাব হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ২১ মে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আরেক মামলায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে রাত ১০টার দিকে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী সি-ব্লকের আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসায় মো. আব্দুল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তারা ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানান।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিহাবের নাম উল্লেখ করে জানায়, তার বিরুদ্ধে আগেও মাদ্রাসার আরও চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারের অভিযোগ ছিল।
পরবর্তীতে নিহত আব্দুল্লাহর মা টুকু আরা খাতুন বাদী হয়ে শিহাব হোসেন ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।