
নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার চাঁনগাঁও গ্রামে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচি লতা বেগমের (৩২) বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হলে বর্তমানে দুইজনকে আটক রাখা হয়েছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, শিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত লতা বেগমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার আলামত হিসেবে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিশুটিকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এক্স-রে করে চিকিৎসকদের মতামত নেওয়া হবে। তবে পরিবারের দাবি, শিশুটির পা ভাঙেনি।
পুলিশ জানায়, প্রায় পাঁচ দিন আগে পারিবারিক কলহের জেরে লতা বেগম রাগের বশে ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মুচড়ে দেন। এ সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে ঘটনাটি ধারণ করেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাইয়ের কাছে দেন। কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওর দাবির সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যে অমিল পাওয়া গেছে। শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে তিন দিন আগেই মীমাংসা হয়েছে। তাদের দাবি, শিশুটি সুস্থ রয়েছে, তার পা ভাঙেনি এবং কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও তারা জানিয়েছেন।
তবে ওসি বলেন, এটি একটি নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগ। ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতে না চাইলেও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমকে থানায় আনা হয়েছিল। শাশুড়ি শেফালী বেগম প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুইজন আটক রয়েছেন।
এদিকে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পলাতক অভিযুক্ত লতা বেগমের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।