
প্রেমিকের সাথে ঘুরতে বেরিয়ে চরম পাশবিকতার শিকার হয়েছেন ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী জুট মিল শ্রমিক। যশোরে ইজিবাইক থামিয়ে প্রেমিককে নির্দয়ভাবে মারধরের পর তাকে জিম্মি করে ওই কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের এক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রেমিক ও ইজিবাইক চালক লিমন হাওলাদার বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২/৩ জনকে আসামি করে অভয়নগর থানায় ধর্ষণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ এজাহারভুক্ত ৬ আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মনিরুল ইসলামের দোকানের পাশে এই ঘটনাটি ঘটে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মোশারফ গাজীর ছেলে আরজান গাজী (৩০), একই গ্রামের আব্দুর রহিম মোড়লের ছেলে হাসান মোড়ল (৩৮), মৃত বাকি সরদারের ছেলে সাজ্জাদ সরদার (৩৮), নূর মোহাম্মদ ওরফে আপন খানের ছেলে সাজিদ হোসেন (২৪), মৃত আমজেদ গাজীর ছেলে মামুন গাজী ওরফে ভুট্টো গাজী (৪১) এবং মৃত সাত্তার মোল্যার ছেলে শফিক মোল্যা (৪৪)।
মামলার বিবরণ ও এজাহার থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাদী লিমন তার প্রেমিকাকে সাথে নিয়ে নিজের ইজিবাইক চালিয়ে শংকরপাশা এলাকায় ঘুরছিলেন। পথিমধ্যে এজাহারভুক্ত ওই ৬ জন ও তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজন যুবক তাদের গতিপথ রোধ করে। এরপর লিমনকে বেদম মারধর করে তার কাছ থেকে ইজিবাইক ও তার প্রেমিকাকে কেড়ে নেওয়া হয়। একই সাথে যুবকরা লিমনের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে রাত ২টার দিকে শংকরপাশা গ্রামের মনিরুল ইসলামের দোকানের পাশে নিয়ে অভিযুক্ত আরমান গাজী বাকি আসামিদের সহযোগিতায় ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ন্যায়বিচারের আশায় থানায় মামলা করার কথা জানিয়ে মামলার বাদী বলেন, "ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশায় ৬ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২/৩ জনের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় ধর্ষণসহ চাঁদ দাবির মামলা করেছি।"
আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘ধর্ষণসহ চাঁদা দাবির মামলায় এজাহার নামীয় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’