
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় জুমার নামাজে নিজামীপুত্রের ইমামতি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সর্বশেষ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের পর বিএনপির পাল্টা বিক্ষোভ কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। এতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে সাঁথিয়া পৌর এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর জামে মসজিদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নিজামীপুত্র ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জুমার নামাজে ইমামতি করতে চান। এ সময় বিএনপির সমর্থকেরা আপত্তি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপিকে দায়ী করেন নিজামীপুত্র ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহকে দায়ী করেন।
জামায়াতের ওই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার এবং পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হয়।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে একই দিন বিকেলে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। পরে সন্ধ্যায় পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় বিএনপি।
সন্ধ্যায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে পৌনে ৮টার দিকে পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করতে গেলে পাশের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিএনপির মিছিলটি পৌর সদরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ না করে উপজেলা চত্বর থেকে সংক্ষিপ্ত করে জুলকারনাইন চত্বরে পথসভা শেষে শেষ করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার পর সাঁথিয়া পৌর সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে ওই এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘আমাদের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করেছে। তাই সন্ধ্যায় আমরাও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিই। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশি-বিদেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে পাশেই অবস্থান নেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কাছে একাত্তরের সেই অস্ত্রও রয়েছে। সেগুলো দিয়ে এ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে চায়। কিন্তু বিএনপি তা হতে দেবে না। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’
তবে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াত। সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনিসুর রহমান বলেন, ‘ওখানে আমাদের সব নেতা-কর্মী অবস্থান নিয়েছিলেন, বিষয়টি এমন নয়। স্থানীয় কিছু কর্মী-সমর্থক একত্রিত হয়ে বিএনপির রাতের মিছিল বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। পরে পুলিশের আহ্বানে তাঁরা সরে আসেন। লাঠিসোঁটা বা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘মিছিলকে কেন্দ্র করে তিন রাস্তার মোড়ের দুই পাশে দুই পক্ষ অবস্থান নেয়। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংক্ষিপ্ত মিছিল শেষে ফিরে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উভয় পক্ষই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’