
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ও জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ভাড়াটে ব্যক্তিকে দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামি তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন। তিনি একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।
আদালত সূত্র জানায়, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি। অভিযোগ অনুযায়ী, সালেহা বেগমকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন তিনি। পরে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মো. সেলিম নামে এক ভাসমান ব্যক্তিকে দিয়ে ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করানো হয়।
চার্জশিট এবং থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাটসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে একটি পরিত্যক্ত ভিটা থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। তদন্তে কমলনগর থানা পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে। পরে সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম বলেন, তিনি সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গলা টিপে অচেতন করেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর সালেহার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
চার্জশিটে উল্লেখ করা সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, সালেহা বেগমের সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়েছিল। জমি কেনার কথা বলে আবু বকর সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু জমি না কিনে পরে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করেন আবু বকর ছিদ্দিক। সেলিমের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে থানা পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত তার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হত্যা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আবু বকর ছিদ্দিক জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও তার চরিত্র লম্পট প্রকৃতির। তাদের দাবি, তিনি এ পর্যন্ত সাতটি বিয়ে করেছেন। অর্থের লোভে পরিবারের অজান্তে তাদের মাকেও বিয়ে করেছিলেন। পরে বিচ্ছেদ হওয়ার পর ক্ষোভ থেকে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছেন। তারা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার এবং দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।