
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি অনুষ্ঠানটি বর্জন করেছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে। বিএনপিকে এ কঠিন সত্যটা মেনে নিতে হবে।’
বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় একটি আলোচনা সভা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা উপস্থিত থাকলেও বিএনপির কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যদি মানুষের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস থাকে, যদি মানুষের পছন্দকে সম্মান করা হয় এবং আমরা যে গণতন্ত্রের কথা বলি তা সত্যিই মেনে চলতে চাই, তাহলে যারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন, তাদেরও মানুষের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তা না হলে ১৭ বছর আন্দোলন করেছেন কেন?’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে হাঁস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন রুমিন ফারহানা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় পরে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অনুষ্ঠান বর্জনের বিষয়ে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি (রুমিন ফারহানা) এমপি হিসেবে প্রশাসনের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। কিন্তু দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই আমরা অনুষ্ঠানে যাইনি।’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘আমরা কি সবার জন্য একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পেরেছি? যদি না পারি, তাহলে কি এটি শুধু একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল? কিছু সুবিধাভোগীর জায়গায় নতুন সুবিধাভোগী তৈরির জন্য কি এত মানুষ প্রাণ দিয়েছেন? যদি তাই হয়, তাহলে শত শত মানুষ কেন জীবন দিলেন, হাজারো মানুষ কেন আহত বা পঙ্গু হলেন? এটা তো হওয়ার কথা ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে তিনি রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বাড়িঘর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১০টি মামলা করা হয়েছিল।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান সফল না হলে আজ আমরা যারা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, তাদের কেউই হয়তো এই অবস্থানে থাকতাম না।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।