
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘আমরা বারবার জীবন দিয়েছি, পঙ্গুত্ব বরণ করেছি, আমাদের সন্তানেরা এতিম হয়েছে, নারীরা বিধবা হয়েছে। এগুলো জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা ত্যাগ করেছি, তা পূরণ হয় নাই। কারণ আমরা শৃগালের হাতে মুরগি তুলে দেওয়ার মতো ভুল করেছি।’
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, ‘মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করা বোকামি। মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না। এর জন্য ইসলামই একমাত্র সমাধান। বৈষম্য রোধ করতে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, সংখ্যালঘুদের শান্তি নিশ্চিত করতে ইসলামই একমাত্র পরীক্ষিত পদ্ধতি।’
চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘জুলাই যে সুযোগ তৈরি করেছিল, তা কাজে লাগাতে আমরা ইসলামের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা করেছিলাম। এই সমঝোতা যখন সম্ভাবনাময় হয়ে উঠল তখন স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতার লোভে আদর্শ ছেড়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। তারা বাংলাদেশে ইসলামের সম্ভাবনা নষ্ট করেছে। একই সাথে তারা দেশের ও জুলাইয়ের প্রত্যাশাও নষ্ট করেছে।’
সমাবেশে দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে স্পষ্ট ‘গাদ্দারি’। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অতীতে গুমের সাথে বেশি সম্পৃক্ততা পুলিশ সদস্যদেরই ছিল।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু ‘সমঝোতার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায়’ আসা বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তার ভাষায়, এতে জনগণের ‘আশায় গুড়ে বালি’ পড়েছে।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানসহ দলের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন।